কলম পাতুরি

ভাবনা আপনার প্রকাশ করবো আমরা

Home » পুজো সংখ্যা ১৪২৮ » ফিরেছো যখন থাকো

ফিরেছো যখন থাকো

ফিরেছো যখন থাকো কবিতা – অনিন্দিতা কামিল্যা

অভিমান?(!)
ধুর্, পাগল।
সেকি আর আমার জন্য সাজে?
অভিমান তো ধনীর ঘরের গৌরাঙ্গী, রূপবতী, মনবিলাসীনি;
খানিক মায়াবীও বটে।
তার বসত কি আর আমার ভিতর?
তবে, সেই যে সে’ রাতে…
কি অদ্ভুত ছিল তোমার শৈল্পিক কারুকার্য!
আমার শরীর-ক্যানভাস জুড়ে মন-তুলি দিয়ে
আমার মানস-সতীনের মুখাবয়ব আঁকলে তুমি, চুমু খেতে খেতে…
সত্যিই কি অসাধারণ শিল্পী তুমি!

তবে আমিও কম নই বল?
তুমি তো জানোই, আমার এক অদ্ভুত ক্ষমতা আছে
মানুষের মন পড়ে ফেলার।
তোমার মন নিংড়ানো যে কয়েক ফোঁটা প্রেম
আমার শরীরে আশ্রয় নিয়েছিলো, ভুল করে;
রাত যত গভীর হয়েছে, তার বিষক্রিয়া ছড়িয়েছে আমার এয়ো- মনে।
তবু্ও,
সকালে স্নান সেরে ভরসার হাত চেপে ধরে-
বিশ্বাসে সিঁদুর পরেছি।
থুতনি জেঁকে বসেছি তোমার মনের দোরগোড়ায়
ভালোবাসার আল্পনা দিতে।

একসময় বুঝলাম,
সে’ রাত আমার দুঃস্বপ্নে কাটেনি।
সোহাগের ঘরে অলক্ষী বাসা বেঁধেছে।
সারা আঙন জুড়ে দেখি-
আমার আঁচল, গোছা চুল বেয়ে আঁচড় কাটছে
তোমার শরীরী আদর,
আর মনে মনে তুমি ডুব দিচ্ছো আবছা আদর মাখা অন্য এক মুখে।

সেই প্রথম অভিমানের সাথে আমার সখ্য এত আন্তরিক হল।
সেই যে সখি হল আমার
এখনও মাঝে মাঝে আসে, খবর নেয়, হাত-খোঁপা করে দেয় চুলে।
আমার বুকের কাছে শাড়ির পাটকে ঘন করে দেয়-
যাতে শূন্যতা না বোঝা যায়;
তোমার ক্লান্ত সময়গুলোতে এখানেই তো বিশ্রাম নিতে।
মাঝে মাঝে অভিমান যখন আমার চোখের দিকে তাকায়,
তখন যেন বুকে হড়পা-বান নামে,
কি যে অসম্ভব তোলপাড় শুরু হয়-
মোচড় দিয়ে ওঠে স্মৃতিরা,
হিসেব কষে সময়
অদৃশ্য সেতু বাঁধে জন্ম-কর্মের।
আমার চোখ জুড়ে বসত করে সহস্র বানভাসির আর্তনাদ!

নাগো না, কেউ জানে না এতকিছু।
একসময় তো তুমিই আমার অলংকার ছিলে…
মেয়েমানুষের অলংকারের ত্রুটি লুকোবার কৌশল
কিন্তু সমীকরণের অতীত,
সে অলংকার গায়ের হোক কিংবা মনের।

তবে জানো তো,
যখন থেকে আমার সোহাগী মোহ তোমার উপর থেকে তুলে নিলাম,
আহা, কেমন ভারমুক্ত মনে হচ্ছিল নিজেকে।
মনে হচ্ছিল, এই মনের সাম্রাজ্য জুড়ে
আমিই একমাত্র বিজয়িনী!
সেদিনই বুঝেছিলাম,
অশুদ্ধের ত্যাগে কি শান্তির এক শুদ্ধ প্রাপ্তি আছে।
সেই আনন্দে এখনও আমার চোখের জলে
আঁচলের কোণ ভিজে,
হলুদের গন্ধ আসে।
এই গন্ধই তো তুমি,
শুদ্ধ অনুভবের সম্পূর্ণ আমার তুমি!
শুধু আমার।

ওহ্, তুমি মনে রেখেছো হলুদ-করবীর কথা!
আমাদের বিয়ের বছর লাগানো।
দেখো, সবুজ থেকে ফ্যাকাসে হয়ে কেমন মৃতপ্রায় যেন।
চেয়ে দেখো, ফুলগুলো কেমন ডাগর চোখে
তাকানোর আগেই কুঁড়িতে ঝরে যাচ্ছে।
যে কয়েকটি ফুল রূপের অহংকারে জোর করে
বৃন্ত জুড়ে থাকতে চায়,
হালকা বাতাসে নত হয়ে ঝরে পড়ে মাটিতে।
দেখ, কেমন ছড়িয়ে আছে মধুহীন শুকনো শরীর নিয়ে
তলা জুড়ে;
ঠিক যেমন এখন আমার আঙিনায় তুমি।

ওই নরম কার্পেট ছেড়ে, দূর্বায় সাজানো মেঠো পথে
কেন ফিরে এলে?
নাহ্, এ প্রশ্নের উত্তর চাই না।
শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ‘ভালোবাসি আদুরী’ শোনার ইচ্ছের জোর নেই,
ভয়ে, আবার হারানোর ভয়ে।
জানি, তোমার সৌন্দর্যৈর মোহে কেউ তোমাকে গলার মালা করে,
কেউ বা সিঁথি করে।
আমার আর এ সব চলে না,
শুধু ভিতর ভিতর তোমার গন্ধ মাখি, তোমার আলোয় সাজি
এখনও।

তুমি ছেড়ে চলে যাওয়ার পরে কখনো সিঁদুর পরিনি ঠিকই,
তবে অতি যত্নে সিঁথি সাজিয়েছি স্মৃতি দিয়ে।
ধৈর্য্য ধরে নিজের ভালোবাসার পরীক্ষা নিয়েছি, নিজেই।
একাকিত্বে যতবার নিজের কাছে বসেছি,
মন বলেছে, তুমি ফিরবে;
তুমি ঠিক ফিরবে।

সেই স্কুল পালানো প্রেমের দিন থেকে
আমি তোমায় এক আকাশ ভালোবাসা দিয়েছি।
নতুন ডানা দিয়েছি তোমার ইচ্ছেগুলোতে,
রং ছড়িয়েছি তোমার তুলি ধরা আঙুলে।
এখনও তুমি মুক্ত আগাছার মতো বাঁচো,
আমি আলগা মাটি হয়ে তোমার বিস্তারকে আগলে রাখবো।

শোনো,
ফিরেই যখন এসেছো, থাকো।।

ফিরেছো যখন, থাকো কবিতা- সমাপ্তি

যে কেউ তাদের লেখা জমা দিতে চান। অনুগ্রহ করে আমাদের লেখা জমা দিন পৃষ্ঠায় জমা দিন| এবং যারা লেখা জমা দিচ্ছেন। পরবর্তী আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে অনুসরণ করুন।

error: Content is protected !!